বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের নিয়মের পদ্ধতি
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ [ ; ]
১.কমার তুলনায় একটু বেশি বা সামান্য বেশি থামার জন্য বা বিরতির জন্য সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়।
২. দুই বা তার অধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের বা Meaning এর নিকট সম্পর্ক থাকলে সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ বসে।
যেমন:-
ক. পড়াশোনা কর; নইলে পাশ করতে পারবে না
খ. ‘দৈবাৎ কখনো আমার জ্বর হয়েছে; তাকে কেউ জ্বর বলত না, বলত গা-গরম’।
৩.এক বা একের অধিক বাক্য বা Sentence সংযোজন অব্যয় বা Conjunction ( সুতরাং, এবং,কিন্তুু,আর,পরন্তুু) দ্বারা যুক্ত না থাকলে তার স্থলে বা তার পরিবর্তে সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ বসে। যেমন:-
ক. পরিক্ষার পড়া আগে পড়; পরে অন্য কিছু।
খ.চাঁদ পৃথিবীর চরদিকে ঘোরে ; পৃথিবী ঘোরে সূর্যের চারদিকে।
গ. জায়েদ খান পরীমনির পিছন পিছন ঘোরে; পরীমনি ঘোরে শাকিব খানের পিছে পিছে।
৪. একই ভাব বা কাজ প্রকাশ করে বা রয়েছে এমন দুটি বাক্যের মাঝে সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ বসে।
যেমন:-
ক. শরীরটা ভালো নেই; জ্বর জ্বর ভাব।
৫.দুটি খণ্ড বাক্যের মাঝেও সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ বসে।
যেমন:- তুমি যাবে বটে; কিন্তুুু দেরি করতে পারবে না।
৬.সমজাতীয় বিষয় বা Subject শেণিভুক্ত করতে সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ ব্যবহার হয়।
যেমন:- বাংলা,ইংরেজি,আরবি, চারুকলা, ও নাট্যকলা; পদার্থবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা,রসায়নবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিসংখ্যান ; অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব ও রাষ্টবিজ্ঞান।
৭.কিছু কিছু অব্যয় পদ [ তথাপি,সুতরাং, সেজন্য, তবু, কিন্তুু,] ইত্যাদি বা নানারকমের অব্যয় পদের পূর্বেও সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ বসে।
যেমন:-
ক.কাউয়া কা কা করে ; তথাপি আমি কাউয়াকে পছন্দ করি।
খ.টিয়া পাখি কথা বলে; সেজন্য সবাই পোষ মানাতে চাই।
ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য পড়তে ভিজিট করুন
পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়ি বা Full stop [।]
Full-stop মানে সম্পূর্ণ রূপে থামা বা বন্ধ হওয়া। আর Full stop এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়ি। দাঁড়ি দ্বারা একটি বাক্যের শেষ বা সমাপ্তি ঘটে। নিচে দাঁড়ির ব্যবহার আলোচনা করা হলো।
১. দাঁড়ি চিহ্নের স্থানে এক সেকেন্ড সময় বা Time পরিমাণ বিরতি দিতে হয়। বাক্যের যেখানে দাঁড়ি থাকে, সেখাসে নিঃশ্বাস সম্পূর্ণ শেষ করতে হয়। আবার নতুন করে নিঃশ্বাস নিয়ে পরবর্তী বাক্য শুরু করতে হয়।
২.প্রতিটি সম্পূর্ণ বা পরিপূর্ণ বাক্য বা Sentence এর শেষে দাঁড়ি বসে।
যেমন:-
ক. হিরো আলম প্রতিদিন নৃত্য করে।
খ. শিখা ভীষণ হিংসুটে মেয়ে।
গ.প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
ঘ. অঞ্জলি ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাস পড়ছে।
ঙ.শিপ্রা প্রতিদিন সকালে গান গায়।
চ. শুকতারার প্রভায় পূর্বের সারা আকাশ আলোকিত হয়ে আছে।
৩.ভিন্ন ভিন্ন প্রসঙ্গের মাঝে দাঁড়ি বসে।
যেমন:-ভাল্লুক চলে গেল। বন্ধু গাছ থেকে নেমে এলো।
৪. অনেক সময় নাটক বা Drama তে চরিত্রের নাম ও সংলাপের মাঝে দুই দাঁড়ি চিহ্ন ব্যবহার করতে দেখা যায় বা করা হয়।
যেমন:- শ্রীকান্ত।। আমায় কেন ডেকেছো?
৫. প্রসঙ্গ ক্রম বা আলোচ্য বিষয় নির্দেশ করতে সংখ্যার পর দাঁড়ি বসে।
যেমন:- বেইজিং অলম্পিকে পদক তালিকার শীর্ষ তিন দেশ হচ্ছে- ১.চীন। ২.যুক্তরাষ্ট্র। ৩.রাশিয়া।
৬. বাক্য প্রশ্নসূচক নয় অথচ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্ন আছে এমন ক্ষেত্রে দাঁড়ি বসে।
যেমন:-
ক. প্রত্যক্ষ বা Director question: স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘গাছের প্রাণ আছে কি না?।’
খ.পরোক্ষ বা Indirect question: স্যার গাছের প্রাণ আছে কি-না জানতে চাইলেন।
কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন [:]
১.কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্নের বিরতির সময় কাল এক সেকেন্ড পরিমাণ।
২. বাক্যে কোন প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. দোয়া করছি : তুমি সফল হবেই।
৩. নাটকের চরিত্রের নাম বা সংলাপের মাঝেও কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. দূর্গা: আমি জানি, তুমি কেন এসেছ।
খ. রাজা: উজির এখানে এসো।
৪.বিভিন্ন প্রসঙ্গের শিরোনামের পূর্বে বা চিঠিপত্রের বিভিন্ন রকমের ফর্মে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. পিতার নাম:, মাতার নাম:, বর্তমান ঠিকানা:, জেলা:, বিভাগ:, তারিখ:
৫. বাক্যে সাধারণত (যেমন,যথা,উদাহরণ, নমুনা) ইত্যাদি ব্যবহারের সময় কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:-
ক. যথা: কাগজ,কলম,পেন্সিল ইত্যাদি।
খ. উদাহরণ: শেখ হাসিনা বাসভবনে মাছ ধরে।
গ. যেমন: কালকে শহরের গলিতে ছিনতাই হয়েছে।
৬. শিরোনাম বা উপশিরোনামের মাঝখানে কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. বাংলাদেশের ছোটগল্প: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ।
৭.ঘন্টা ও মিনিট নির্দেশ বা চিহ্নিত করতে কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. দুপুর ১২:০০টা বাজে তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে।
খ. কাল সকাল ৬:৩০ এ তোমার সাথে সাক্ষাৎ হবে পার্কে।
পিচ্চিরা মনে রাখবা কোলন এবং বিসর্গ দুটির চিহ্ন প্রায় একই রকমের দেখা যায় কিন্তুু আলাদা আলাদা। বিসর্গ চিহ্নের মাঝে ফাঁকা থাকে কিন্তুু কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ চিহ্নের মাঝে কোন প্রকার ফাঁকা থাকে না সেটা ডট চিহ্নের মতো।।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন বা Question Mark [?]
১. প্রশ্নবোধক চিহ্নের বিরতি কাল ১ সেকেন্ড পরিমাণ সময় কাল।
২.বাক্যের ভেতর প্রশ্নের বা জিজ্ঞাসার ভাব থাকলে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. করবে কে? প্রকাশক না ক্রেতা?
২. বাক্যের ভেতর প্রশ্নসূচক অব্যয়[কি, কাকে,কার,কবে] এবং প্রশ্নসূচক সর্বনাম বা বিশেষ্য[কী,কী রকম,কীসে] ইত্যাদি থাকলে বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. তোমার নাম কি?
খ. আজ কী রান্না হবে?
গ. এ কী রকম কথা?
ঘ. কী হবে এখন?
ঙ. কারা এসেছে?
৩.অনেক সময় (না) দিয়ে প্রশ্ন করা বুঝায় তবে সে বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. তুমি যাবে না?
খ. তুমি খাবে না?
গ. তুমি আমায় বিয়ে করবে না?
৪.অনেক সময় সন্দেহ বা সংশয় বুঝাতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহার হয়।
যেমন:-
ক. ইনি তোমার বাবা?
খ. এটা তোমাদের বাড়ি?
গ. পরিক্ষার আগে অসুখে পড়ল, মেয়েটা পাশ করতে পারবে তো?
৫. তথ্যের নির্ভুলতা সম্পর্ক্যে নিঃসংশয় হওয়া না গেলে বা সংশয় থাকলে সেক্ষেত্রে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:-
ক. তিনি ১৯৫০(?) সালে জন্মগ্রহণ করেন।
৬. ব্যঙ্গাত্মক মনোভাব প্রকাশ করতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:-
ক. আপনার মতো জনদরদি(?) নেতা অনেক দেখেছি।
বিস্ময় চিহ্ন [!]
১.বিস্ময়চিহ্নের বিরতি কাল এক সেকেন্ড পরিমাণ সময়।
২. অবাক বা বিস্ময়, আনন্দ, ভয়, ঘৃণা, শোক ইত্যাদি আবেগ প্রকাশ করতে বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:-
ক. বিস্ময়: আরে এ যে নজরুলের গলা!
খ. আনন্দ: আহ, কী আশ্চর্য ব্যাপার।
গ. ভয়: সাপ! সাপ! পালাও!
ঘ. শোক: হায়! হায়!, কী সর্বনাশ হয়েগেল!
ঙ. ঘৃণা: ছি তুমি এমন করতে পারলে!
চ. অবাক কাণ্ড! এমন ঘটনা কখনো দেখিনি।
৩.কাউকে[ধিক্কার, আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ] ইত্যাদির ক্ষেত্রেও বিস্ময় সূচক চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. ছি!ছি! এ কথা তুমি বলতে পারলে?
খ. বন্ধুগণ! দয়া করে আমার কথা শুনুন
৪. আবেগ সূচক অ্যবয় [হায় হায়!, বাহ্!, ছি!] প্রভৃতি পদের শেষে বিস্ময় চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. হায়! এ খণ্ডিত শিরে তোমার প্রয়োজন কি?
খ. রে পথিক! পাষাণ হৃদয় পথিক!
৫.প্রয়োজন বোধে বাক্যের ভেতরে বন্ধনীর মধ্যে বিস্ময় চিহ্ন ব্যবহার করা যায়।
যেমন:- মেয়েটা ছয় ফুট(!) লম্বা
৬.সম্বোধন এবং আলঙ্কারিক প্রশ্নেও বিস্ময় চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. সম্বোধন: ‘বৎস্য! কেমন শকুন্তলাবণ্য। ‘
খ. আলঙ্কারিক প্রশ্ন: ‘কার সাধ্য ওর গায়ে হাত দেয়! ‘
ড্যাশ বা রেখা চিহ্ন [—]
১. ড্যাশ চিহ্নের বিরতি কাল এক সেকেন্ড সময় পরিমাণ।
২.কোন কথা বা বাক্যের দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বা উদাহারণ বা নজির বুঝাতে ড্যাশচিহ্ন বা রেখাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:-
ক. বার্ধক্য তাহাই—যাহা পুরাতনকে, মৃত্যুকে, আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে।
খ. গৃহপালিত পশু হচ্ছে— গরু, ঘোড়া, মহিষ, ছাগল, ভেঁড়া, হাঁস, মুরগী, কবুতর, কুকুর,বিড়াল ইত্যাদি।
৩. কোন উক্তির আগে ড্যাশ[—] চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
ক. পুতুল বললো—সুবল তোমার গানটি চমৎকার হয়েছে।
৪. কোন লেখকের নামের আগে তাঁর উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে সে ক্ষেত্রে লেখকের নামের আগে ড্যাশ[—]চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. ‘আমি অবহেলার, আপমানের। আমি সুন্দর নই। আমি বীভৎস। আমি বুকে নিতে পারি না, আমি আঘাত করি।’ —নজরুল ইসলাম।
৫. বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা বাক্য অসম্পূর্ণ রাখতে বাক্যের শেষে ড্যাশ[—] চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. ‘সমুদ্র! আমি তোমাকে আদেশ করছি যে—
খ. এতো সুন্দর মেয়েটি তবে—
৬. প্রসঙ্গান্তরে বা প্রসঙ্গের শেষে যেতে ড্যাশ বা রেখাচিহ্ন[—] ব্যবহার হয়।
যেমন:-
ক. ‘শিখা—না, এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না’।
৭. বক্তব্যের বিস্তারে বা প্রসারে ড্যাশ বা রেখাচিহ্ন[—] ব্যবহার হয়।
যেমন:-
ক. ভালো ছাত্র নকল করেছে—ছিছি, কি লজ্জা!
৮. দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটাতে ড্যাশ বা রেখাচিহ্ন[—] ব্যবহার হয়।
যেমন:-
ক. দরিদ্রকে সাহায্য করো—এতে তোমার সম্মান যাবে না—বাড়বে।
৯. নাটক,গল্প-উপন্যাসের সংলাপের আগে ড্যাশ চিহ্ন বসে।
যেমন:-
ক. —আপনে কেডা? নাম কন!
খ. —নাম শুইন্যা কি অইবো?
১০. ইতস্তত বা দ্বিধা বুঝাতে ড্যাশচিহ্ন বা রেখাচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:-
ক. আ—আ—মি,আমি অহন যা—ই।
১১. শূন্যস্থান পূরণের প্রশ্নের লুপ্ত বা বিচ্ছিন্ন বা খালি স্থানে ড্যাশচিহ্ন বা রেখাচিহ্ন [—] বসে।
যেমন:-
ক. মহাভারতের কথা—সমান
১২. স্থান ও কাল বা সময় গত ব্যবধান বুঝাতে ড্যাশচিজ্ন বা রেখাচিহ্ন[—] ব্যবহার হয়।
যেমনা:-
ক. ময়মনসিংহ—ঢাকা, ঢাকা—রজশাহী
খ. ২০০০—২৪, ১৯৭২—৭৫ ।
১৩. উদাহরণ দেওয়ার সময় ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:-
ক. উদাহরণ—বই,খাতা,কলম,রাবার ইত্যাদি।
কিছু কথা তোমাদের মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ড্যাশচিহ্ন বা রেখাচিহ্ন[—] এবং হাইফেন[–] দেখতে অনেকটা একই রকমের মনে হলে হতে পারে, কিন্তু মূলত তারা এক নয়। ড্যাশ[—] অপেক্ষা হাইফেন[–] ছোট অথবা হাইফেন অপেক্ষা ড্যাশ বড়ো কিন্তু একরকম নয়। তোমরা লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবে যে কোথায় আগরতলা আর কোথায় উগারতলা।
আশা করি তোমরা বুঝতে পারছো।।
হাইফেনচিহ্ন বা সংযোগচিহ্ন বা পদসংযোগচিহ্ন[–]
হাইফেনের বাংলা হলো সংযোগ চিহ্ন বা পদ সংযোগ চিহ্ন বলা হয়।
১.হাইফেন বা সংযোগচিহ্নের কোন বিরতি কাল বা সময় নেই বা কোন বিরতির প্রয়োজন পড়ে না।
২.বিভিন্ন বা নানা রকম পদ কে সন্ধিবন্ধ করতে হাইফেন বা সংযোগ বা পদসংযোগচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:–
ক. দা–কুমড়া, অহি–নকুল [সাপ–বেজি],স্বর্গ–নরক ইত্যাদি
খ.আকাশ–পাতাল, আয়–ব্যয়, জমা–খরচ,ছেলে– বুড়ো, লাভ–লোকসান ইত্যাদি
গ. হাত–পা, চোখ–মুখ, নাক–কান, বুক–পিঠ, মাথা–মণ্ডু ইত্যাদি
ঘ.সাত–পাঁচ, নয়–ছয়, সাত–সতের, উনিশ–বিশ ইত্যাদি
ঙ. হাট–বাজার, ঘর–দুয়ার, কল–কারখানা, মোল্লা–মৌলভী, খাতা–পত্র ইত্যাদি।
চ. কাপড়–চোপড়, পোকা–মাকড়, দয়া–মায়া, ধূতি–চাদর ইত্যাদি
ছ. যে–সে,যথা–তথা, তুমি–আমি,যেখানে–সেখানে ইত্যাদি।
জ. ভালো–মন্দ, কম–বেশি, আসল–নকল, বাকি–বকেয়া ইত্যাদি
ঝ.দেখা–শুনা, যাওয়া–আসা, চলা–ফেরা, দেওয়া–থোওয়া, উঠা–বসা ইত্যাদি।
৩.একই শব্দ পরপর দুবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হাইফেন বা সংযোগ বা পদসংযোগ চিহ্ন বসে।
যেমন:–
ক. খেতে–খেতে তার সাথে কথা বললাম।
খ. টিভি দেখতে–দেখতে সকালের নাস্তা করলাম।
৪.কোন কোন উপসর্গ বা Prefix এর পর হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন ব্যবহার হয়।
যেমন:–
ক. অ–তৎসম
খ. কু–অভ্যাস
৫.ভিন্নার্থক বা ভিন্ন রকমের অর্থের বা বিপরীত অর্থের শব্দের সংযোগ দেখাতে হাইফেন ব্যবহার হয়।
যেমন:–
ক. সত্য–মিথ্যা,অহি–নকুল,স্বর্গ–নরক ইত্যাদি
খ.আকাশ–পাতাল, আয়–ব্যয়, জমা–খরচ,ছেলে– বুড়ো, লাভ–লোকসান
গ. আসল–নকল
ঘ. রাত–দিন
৬.সমান বা কাছাকাছি অর্থ বুঝাতেও হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:–
ক. বই–খাতা, চেয়ার–টেবিল, খাট–পালঙ
৭.দুটি নাম বিশেষ্যের সংযোজনে হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন ব্যবহার হয়।
যেমন:–
ক. নজরুল–বরীন্দ্র রচনাবলী
৭.স্থান বা সময় বা দিক নির্দেশ বা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে হাইফেন বা পদসংযোগ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে হাইফেনের অর্থ ‘থেকে’ অর্থে।
যেমন:–
ক. ঢাকা–রাজশাহী, ময়মনসিংহ–সিলেট
খ. বিকাল ৪টা–৫টা এর মধ্যে তোমার সাথে দেখা করবো প্রিয়োতমা।
গ. জানুয়ারী–জুন মাসের মধ্যেই শিখা বিয়ের পিড়িতে বসবে তার পছন্দের যুবকের সাথে।
গ. উত্তর–দক্ষিণ বরাবর চলে যাও তাহলেই পাবে সেই জঙ্গলের দেখা যেখানে নাগা সন্ন্যাসীরা করে তপস্যা।
কোটেশন বা উদ্ধৃতিচিহ্ন [‘—’] অথবা [‘‘—’’]
কোটেশন বা উদ্ধৃতিচিহ্ন কখনো এক বা একক উদ্ধৃতি এবং কখনো দুই বা দ্বৈত উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ক. এক বা একক উদ্ধৃতিচিহ্ন বা কোটেশনচিহ্ন হলো [‘—’] এটি
খ. দুই বা দ্বৈত উদ্ধৃতিচিহ্ন বা কোটেশনচিহ্ন হলো [‘‘—’’] এটি
একক বা দ্বৈত উদ্ধৃতিচিহ্ন বা কোটেশনচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তেমন কোন পার্থক্য নেই।
কোটেশন বা উদ্ধৃতিচিহ্নেে ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১.উদ্ধৃতিচিহ্ন বা কোটেশনচিহ্নের বিরতি কাল ১ বলতে যে সময় বা Time প্রয়োজন–ততোটুকু।
২.কখনো [একটি বিশেষ শব্দকে বা বই বা শিল্পকর্ম বা চলচিত্র বা পত্রিকা]ইত্যাদির নাম উল্লেখ করতে বা গুরুত্ব দিয়ে বুঝাতে কোটেশন বা উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:–
ক. ‘দারিদ্র’ কাজী নজরুলের একটি বিখ্যাত কবিতা।
খ. ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাস।
গ. ‘গিতাঞ্জলী’র জন্য কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৩) সালে নোবেল পুরস্কার পান।
ঘ. ‘মোনালিসা’ লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির একটি বিখ্যাত শিল্পকর্ম।
ঙ. ‘জয়যাত্রা’ চলচিত্রটি জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার পেয়েছে।
চ. বাংলা একাডেমির শিশুতোষ পত্রিকা হচ্ছে ‘ধান শালিকের দেশ’
৩.কোন লেখকের বা অন্যের লেখা উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে বা [বক্তব্য বা বাক্য বা চরণ বা ধারণা বা মতবাদ বা তত্ত্ব বা সূত্র] তুলে ধরতে হলে উদ্ধৃতি বা কোটেশন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:–
ক. কবি নজরুল তাঁর কবিতায় বলেছেন, ‘‘হে দারিদ্র্য! তুমি মোরে করেছ মহান।’’
খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘শিক্ষা যারা আরম্ভ করেছে, গোড়া থেকেই বিজ্ঞানের ভাণ্ডারে না হোক, বিজ্ঞানের আঙ্গিনায় প্রবেশ করা আবশ্যক।’
গ. আজকাল ‘উত্তর-আধুনিকতা’ নিয়ে বেশ লেখালেখি হচ্ছে।
ঘ. চালস ডারউইন ‘বিবর্তনবাদ’ এর প্রবক্তা।
ঙ. ‘আপেক্ষিকতত্ত্বে’র জনক আলবার্ট আইনস্টাইন।
চ. আইজাক নিউটন ‘মহাকর্ষ সূত্রে’র আবিষ্কারক।
৪.বাক্য বা Sentence এর মধ্যে কোন বাগধারা বা কোন কোন অংশকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য উদ্ধৃতি বা কোটেশন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:–
ক. বড় বাড়িতে বিয়ে ‘সে এক এলাহি কাণ্ডজ্ঞান।’
৫.বাক্যে উদ্ধৃতির বা কোটেশনের মধ্যে যদি উদ্ধৃতি বা কোটেশন থাকে বা দেয়া হয় তাহলে ভেতরের উদ্ধৃতি বা কোটেশন এক উদ্ধৃতি বা এক কোটেশন[‘—’] হয় এবং বাহিরের উদ্ধৃতি বা কোটেশন দুই উদ্ধৃতি বা দুই কোটেশন[‘‘—’’ হয়। অথবা উদ্ধৃতির মধ্যে উদ্ধৃতি থাকলে বাইরে ভেতরের উদ্ধৃতির বিপরী চিহ্ন ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। মোট কথা কোটেশনের ভেতর কোটেশন থাকলে একটা অপরটার বিপরীত হবে।
যেমন:–
ক. মোহাম্মদ রেগে গিয়ে বললো, ‘‘তুই শালা একটা খচ্চর আদমি! তুই ‘হুমায়ুন আজাদ’ পড়ে পাজি হয়েছিস।”
খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ছুটি’ গল্প লিখেছেন, “ছেলেরা কোমর বাঁধিয়া ঠেলতে আরম্ভ করিল– ‘মারো ঠেলা হেঁইয়ো, সাবাস জোয়ান হেইয়ো।’ গুঁড়ি এক পাক ঘুরিতে না ঘুরিতেই মাখন তাহার গাম্ভীর্য গৌরব এবং তত্ত্বজ্ঞান সমেত ভূমিসাৎ হইয়া গেল।”
৬. গল্প বা উপন্যাস বা কবিতা বা প্রবন্ধ ইত্যাদির নাম উল্লেখ করতে কোটেশন বা উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:–
ক. রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী’ গল্পটি আমি অনেক আগে পড়েছি।
খ. ‘শ্রীকান্ত’ শরৎচন্দ্রের একটি বিখ্যাত উপন্যাস যা আমার কাছে এখনো সংগ্রহে আছে।
গ. ‘বিদ্রোহী’ নজরুলের একটি বিখ্যাত কবিতা।
ঘ. দশম শ্রেণীতে আমরা পড়েছি মোতাহের হোসেন চৌধুরী’র “শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব” এবং “লাইব্রেরি”প্রবন্ধ দুটি।